প্রতিদিনের ডিমের অমলেট বা ডিম ভুজিয়ার বাইরে একটু অন্যরকম কিছু তৈরি করতে চাইলে ডিমের ফ্রিটাটা হতে পারে দারুণ একটি বিকল্প। ফ্রিটাটা দেখতে অনেকটা মোটা অমলেটের মতো হলেও রান্নার পদ্ধতি ও গঠনে এর আলাদা বৈশিষ্ট্য রয়েছে।
ডিমের সঙ্গে বিভিন্ন ধরনের সবজি, পেঁয়াজ, ক্যাপসিকাম, টমেটো ও চিজ মিশিয়ে এটি তৈরি করা যায়। সাধারণত কম আঁচে ধীরে ধীরে রান্না করা হয়, ফলে বাইরের অংশ সেট হয়ে গেলেও ভিতরটা নরম ও রসালো থাকে।
উপকরণ
মূল উপকরণ
- ডিম – ৬টি
- পেঁয়াজ – ১টি মাঝারি, কুচি
- ক্যাপসিকাম – ১টি, ছোট টুকরো
- টমেটো – ১টি, বীজ বাদ দিয়ে কুচি
- গাজর – ½টি, ছোট কুচি
- মাশরুম – ½ কাপ, স্লাইস করা
- কাঁচা লঙ্কা – ১টি, কুচি
- রসুন – ২ কোয়া, কুচি
- দুধ – ৩ টেবিল চামচ
- চিজ – ½ কাপ, কোরানো
- গোলমরিচগুঁড়ো – ½ চা-চামচ
- লঙ্কাগুঁড়ো – ¼ চা-চামচ
- মিক্সড হার্বস – ½ চা-চামচ
- নুন – স্বাদমতো
- মাখন বা তেল – ২ টেবিল চামচ
অতিরিক্ত স্বাদের জন্য
- ধনেপাতা – ২ টেবিল চামচ, কুচি
- স্প্রিং অনিয়ন – ২ টেবিল চামচ
- চিলি ফ্লেক্স – ½ চা-চামচ
- পার্সলে – সামান্য, ইচ্ছেমতো
ডিমের মিশ্রণ তৈরি
প্রথমে একটি বড় বাটিতে ৬টি ডিম ভেঙে নিন।
ডিমগুলো ভালোভাবে ফেটিয়ে নিন।
এর মধ্যে দুধ যোগ করুন।
দুধ দেওয়ার ফলে ফ্রিটাটার ভিতরের অংশ আরও নরম হবে।
এবার নুন, গোলমরিচগুঁড়ো, লঙ্কাগুঁড়ো ও মিক্সড হার্বস দিন।
সব উপকরণ ভালোভাবে মিশিয়ে রাখুন।
খুব বেশি সময় ধরে ডিম ফেটানোর দরকার নেই। শুধু ডিমের সাদা ও হলুদ অংশ ভালোভাবে মিশে গেলেই হবে।
সবজি প্রস্তুত করা
একটি প্যান গরম করুন।
এর মধ্যে মাখন বা তেল দিন।
প্রথমে কুচি করা পেঁয়াজ দিন।
মাঝারি আঁচে ২ মিনিট ভাজুন।
পেঁয়াজ সামান্য নরম হলে কুচি করা রসুন ও কাঁচা লঙ্কা যোগ করুন।
প্রায় ৩০ সেকেন্ড নাড়ুন।
এরপর গাজর ও ক্যাপসিকাম দিন।
২–৩ মিনিট রান্না করুন।
সবজি সম্পূর্ণ নরম করবেন না। সামান্য ক্রাঞ্চ থাকলে ফ্রিটাটার স্বাদ ও টেক্সচার আরও ভালো হবে।
এরপর মাশরুম যোগ করুন।
মাশরুম থেকে সামান্য জল বের হবে। সেটি শুকিয়ে যাওয়া পর্যন্ত রান্না করুন।
সবশেষে টমেটো যোগ করুন।
টমেটো বেশি সময় রান্না করবেন না, কারণ অতিরিক্ত জল বের হলে ফ্রিটাটা সহজে জমবে না।
ডিম ঢেলে দেওয়া
সবজি ভালোভাবে ভাজা হয়ে গেলে আঁচ কমিয়ে দিন।
এবার তৈরি করা ডিমের মিশ্রণটি ধীরে ধীরে প্যানে ঢেলে দিন।
ডিম ঢালার পর সঙ্গে সঙ্গে বেশি নাড়াচাড়া করবেন না।
স্প্যাচুলা দিয়ে প্যানের চারপাশ সামান্য আলগা করে দিন, যাতে ডিম নিচে গিয়ে সমানভাবে রান্না হতে পারে।
এবার ওপর থেকে কোরানো চিজ ছড়িয়ে দিন।
চাইলে কিছুটা স্প্রিং অনিয়ন ও ধনেপাতাও ছড়িয়ে দিতে পারেন।
চুলায় ফ্রিটাটা রান্না
প্যানটি ঢেকে দিন।
একেবারে কম আঁচে ৮–১২ মিনিট রান্না করুন।
এই সময় বারবার ঢাকনা খুলবেন না।
ধীরে ধীরে ডিম জমতে থাকবে।
নিচের অংশ রান্না হয়ে গেলে ফ্রিটাটার কিনারা শক্ত হয়ে আসবে এবং মাঝের অংশও ধীরে ধীরে সেট হবে।
একটি কাঠি বা টুথপিক মাঝখানে ঢুকিয়ে দেখুন।
যদি অতিরিক্ত তরল ডিম লেগে না থাকে, তাহলে বুঝবেন ফ্রিটাটা রান্না হয়ে গেছে।
ওভেনে তৈরি করার পদ্ধতি
ওভেন ব্যবহার করলে প্যানটি আগে থেকে ১৮০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে গরম করে নিতে পারেন।
ডিম ও সবজি মিশিয়ে নেওয়ার পর ওভেন-সেফ প্যানে চিজ ছড়িয়ে দিন।
এরপর প্যানটি ওভেনে দিয়ে প্রায় ১২–১৮ মিনিট বেক করুন।
ওপরের অংশ হালকা সোনালি হয়ে এলে বের করে নিন।
ওভেন থেকে বের করার পর ৫ মিনিট রেখে দিন।
তারপর টুকরো করে পরিবেশন করুন।
ফ্রিটাটা উল্টানোর সহজ কৌশল
চুলায় তৈরি ফ্রিটাটা যদি একেবারে পুরোপুরি উল্টাতে চান, তাহলে একটি বড় প্লেট প্যানের ওপর রাখুন।
প্যানটি সাবধানে উল্টে ফ্রিটাটাটি প্লেটে বের করুন।
এরপর অন্য একটি প্লেট বা প্যানের সাহায্যে আবার প্যানে ফিরিয়ে দিন।
তবে ফ্রিটাটা উল্টানো বাধ্যতামূলক নয়।
ঢেকে কম আঁচে রান্না করলেই দুই দিক সুন্দরভাবে রান্না হয়ে যায়।
আলু দিয়ে ডিমের ফ্রিটাটা
আরও পেটভরা ফ্রিটাটা তৈরি করতে চাইলে এতে আলু ব্যবহার করতে পারেন।
১টি ছোট আলু পাতলা স্লাইস করে নিন।
সামান্য তেলে আলু আগে ভেজে নরম করে নিন।
এরপর পেঁয়াজ, ক্যাপসিকাম ও অন্যান্য সবজি দিয়ে রান্না করুন।
সবশেষে ডিম ঢেলে দিন।
আলু থাকলে ফ্রিটাটা আরও ভারী ও পেটভরা হবে।
চিকেন ফ্রিটাটা
ফ্রিটাটাকে আরও সমৃদ্ধ করতে আগে রান্না করা চিকেনের ছোট টুকরো যোগ করা যায়।
চিকেনটি সামান্য গোলমরিচ ও নুন দিয়ে রান্না করে নিন।
সবজির সঙ্গে চিকেন মিশিয়ে তারপর ডিম ঢেলে দিন।
চিজ ব্যবহার করলে চিকেন ও ডিমের সঙ্গে এর স্বাদ আরও ভালোভাবে মিলবে।
পালং শাকের ফ্রিটাটা
স্বাস্থ্যকর সংস্করণের জন্য পালং শাক ব্যবহার করা যায়।
পালং শাক ভালোভাবে ধুয়ে কুচি করে নিন।
পেঁয়াজ ও রসুনের সঙ্গে ২–৩ মিনিট ভেজে নিন।
এরপর ডিমের মিশ্রণ ঢেলে দিন।
চাইলে সামান্য চিজ যোগ করা যায়।
চিজ ছাড়া ফ্রিটাটা
চিজ না থাকলেও ফ্রিটাটা তৈরি করা যায়।
ডিম, সবজি, পেঁয়াজ ও মশলাই যথেষ্ট।
চিজ না দিলে স্বাদ কিছুটা হালকা থাকবে এবং পদটি আরও সাধারণ উপকরণে তৈরি হবে।
ফ্রিটাটা নরম রাখার টিপস
১. ডিমের সঙ্গে সামান্য দুধ ব্যবহার করুন।
২. সবজি থেকে অতিরিক্ত জল বের হতে দেবেন না।
৩. ডিম ঢালার পর উচ্চ আঁচে রান্না করবেন না।
৪. ঢেকে কম আঁচে ধীরে ধীরে রান্না করুন।
৫. অতিরিক্ত রান্না করলে ডিম শক্ত ও শুকনো হয়ে যেতে পারে।
৬. রান্না হয়ে যাওয়ার পর কয়েক মিনিট রেখে তারপর কাটুন।
কীভাবে পরিবেশন করবেন
ফ্রিটাটা প্যান থেকে বের করে ত্রিভুজ আকারে কেটে পরিবেশন করা যায়।
সঙ্গে টমেটো সস, চিলি সস বা পুদিনার চাটনি রাখা যায়।
সকালের জলখাবারে টোস্ট ও তাজা ফলের সঙ্গে পরিবেশন করলে সুন্দর একটি সম্পূর্ণ খাবার হয়ে যায়।
হালকা রাতের খাবার হিসেবে চাইলে পাশে স্যালাড যোগ করতে পারেন।
রান্নার সময়
প্রস্তুতির সময়: ১৫ মিনিট
রান্নার সময়: ২০ মিনিট
মোট সময়: প্রায় ৩৫ মিনিট
পরিমাণ: ৩–৪ জন
উপসংহার
সাধারণ ডিমকে একটু অন্যভাবে পরিবেশন করতে চাইলে ডিমের ফ্রিটাটা একটি চমৎকার বিকল্প। ডিমের সঙ্গে নিজের পছন্দের সবজি ব্যবহার করা যায় বলে প্রতিবারই এর স্বাদে কিছুটা নতুনত্ব আনা সম্ভব।
পেঁয়াজ, ক্যাপসিকাম, টমেটো, মাশরুম, পালং শাক, আলু কিংবা চিকেন—বিভিন্ন উপকরণ দিয়ে তৈরি করা যায় নানা ধরনের ফ্রিটাটা। কম আঁচে ধীরে রান্না করাই এর মূল কৌশল। গরম গরম কেটে পরিবেশন করলে নরম ডিম, সবজি ও চিজের সুন্দর মিশ্রণ উপভোগ করা যায়।












Leave a Reply