মালদা, নিজস্ব সংবাদদাতা :- ১২ বছরের স্কুলছাত্রীর ছবি ঘিরে গুরুতর অভিযোগ! সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে ঘনিষ্ঠ ছবি, অভিযুক্ত এলাকারই এক কিশোর। থানায় অভিযোগ জানিয়েও বিচার পাচ্ছে না পরিবার?
মালদার কালিয়াচকের একটি গ্রামে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তৈরি হয়েছে তীব্র উদ্বেগ। পরিবারের অভিযোগ, বাড়ির কাছেই দাঁড়িয়ে থাকা এক নাবালিকার জোর করে ছবি তুলেছিল এলাকারই এক কিশোর। পরবর্তীতে সেই ছবি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ।
পরিবারের দাবি, ঘটনার পর মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে ওই স্কুলছাত্রী। পরে মায়ের কাছে সমস্ত ঘটনা জানায় সে।
মেয়ের নিরাপত্তা ও ঘটনার বিচার চেয়ে কালিয়াচক থানায় যান তার মা । পুলিশের কাছে লিখিত অভিযোগও দায়ের করেন তিনি।
কিন্তু পরিবারের অভিযোগ, অভিযোগ জানানোর পরও এখনও পর্যন্ত তাঁরা কোনও সুরাহা পাননি। এমনকী, অভিযোগের জেনারেল ডায়েরি বা জিডি নম্বরও তাঁদের দেওয়া হয়নি বলে দাবি পরিবারের।
এরই মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ বাড়িয়েছে আরও একটি অভিযোগ। পরিবারের দাবি, মামলা তুলে নেওয়ার জন্য তাঁদের উপর চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। স্থানীয়ভাবে সালিশির মাধ্যমে বিষয়টি মিটিয়ে নেওয়ার প্রস্তাব দেওয়ার পাশাপাশি হুমকি ফোনও আসছে বলে অভিযোগ।
নাবালিকার বাবার বক্তব্য, সরকার পরিবর্তনের পরও মেয়ের নিরাপত্তা নিয়ে তাঁদের উদ্বেগ কাটেনি। ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করে অভিযুক্তকে গ্রেফতার এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তিনি।
এই ঘটনায় রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়াও সামনে এসেছে। দক্ষিণ মালদা সাংগঠনিক জেলার বিজেপির সাধারণ সম্পাদক বিশ্বজিৎ রায় ঘটনার নিন্দা করে অভিযুক্তের দ্রুত গ্রেফতার ও উপযুক্ত শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
তবে এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত পুলিশের কোনও বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ফলে পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তের অগ্রগতি এবং প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।
১২ বছরের একটি শিশুর নিরাপত্তা ও মর্যাদার প্রশ্নে কোনও রকম গাফিলতির অবকাশ নেই। অভিযোগের প্রতিটি দিক দ্রুত ও নিরপেক্ষভাবে খতিয়ে দেখা জরুরি। পাশাপাশি, শিশুটির পরিচয় ও ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষা করাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।