বিলুপ্ত প্রায় মাছ সরকারি উদ্যোগে চাষের পরিসর বাড়ানোর পাশাপাশি কর্ম সংস্থানের উদ্যোগ পূর্ব মেদিনীপুর জেলায়।

তমলুক-পূর্ব মেদিনীপুর, নিজস্ব সংবাদদাতা:-  কই শিঙ্গি মাগুর সহ একাধিক বিলুপ্ত প্রায় মাছ সরকারি উদ্যোগে চাষের পরিসর বাড়ানোর পাশাপাশি কর্ম সংস্থানের উদ্যোগ পূর্ব মেদিনীপুর জেলায়। গ্রাম বাংলার খাল-বিল পুকুর-ডোবা থেকে বিলুপ্ত প্রায় সিংয়ের মাগুর কই সহ বিভিন্ন ধরনের জিওল মাছ। অত্যন্ত পুষ্টিকর এই মাছ গুলি প্রায় বিলুপ্ত হওয়ায় বাজারে চাহিদা প্রচুর। ফলে গ্রাম থেকে শহর হাটে বাজারই চড়া দামে বিক্রি হয় জিওল মাছ। পূর্ব মেদনীপুর জেলায় বিলুপ্ত প্রায় বিভিন্ন জি এল মাছ সরকারি উদ্যোগে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে। শুধু জিওল মাছের চাষের পরিসর বৃদ্ধি করা নয়, সেই সঙ্গে সঙ্গে কর্ম সংস্থানের লক্ষ্য রাখা হয়েছে।

পূর্ব মেদিনীপুর জেলার বিভিন্ন প্রান্তের সরকারি উদ্যোগে বিভিন্ন জিওল মাছের চাষ শুরু হয়েছে। রাষ্ট্রীয় কৃষি বিকাশ যোজনা ও রাজ্য গ্রাম উন্নয়ন দফতরের সহায় সিএডিসির প্রকল্পে কই মাছ চাষ শুরু হয়েছে। তবে সরাসরি পুকুর-ডোবা কিংবা খাল-বিলে নয়, চৌবাচ্চায় কই মাছের চাষ শুরু করা হয়েছে। কই মাছের চাষ শুরু করার পাশাপাশি এই মাছ চাষের সম্প্রসারণ ও ব্যাপ্তি ঘটাতে প্রশিক্ষণ দেওয়া চলছে। চৌবাচ্চায় কৈ মাছ চাষ অত্যন্ত লাভ জনক। কম খরচে সহজেই চৌবাচ্চায় কই মাছের চাষ সম্ভব। ফলে কর্ম সংস্থানের দিক থেকে চৌবাচ্চায় কই মাছ চাষ উপযোগী।

বাড়িতে চৌবাচ্চায় সহজে কই মাছের চাষ হয়। কই মাছের চাষের জন্য সময় লাগে চার থেকে পাঁচ মাস। একটি ১০ ফুট দৈর্ঘ্য ও ৫ ফুট প্রস্থ এবং ২.৫ ফুট গভীরতা যুক্ত চৌবাচ্চায় ১০০ কেজি কই মাছ চাষ করা যায়। কই মাছের বর্তমান বাজার মূল্য থেকে হাফ খরচে কই মাছের চাষ হয়। বিলুপ্ত প্রায় জিওল মাছ কই ফেরাতে সিএডিসি প্রকল্পে প্রাথমিক ভাবে কই মাছের পোনা উৎপাদনের পাশাপাশি চৌবাচ্চায় কই মাছ চাষ করা শুরু হয়েছে। এর পাশাপাশি বেকার যুবক-যুবতীদের কর্ম সংস্থানের লক্ষ্য এবং জিওল মাছের সম্প্রসারণ এর জন্য প্রশিক্ষণ দেওয়ার কাজও চলছে।

বিলুপ্ত প্রায় কই মাছ চাষের মধ্যে কর্ম সংস্থান বিষয়ে সিএডিসির প্রজেক্ট ডাইরেক্টর ডঃ উত্তম কুমার লাহা জানান, ‘কই মাছ প্রায় বিলুপ্ত হওয়ায় বাজারে চড়া দাম রয়েছে। পুরোপুরি বায়োফ্লক পদ্ধতিতে না হলেও মাটির চৌবাচ্চায় পলিথিন দিয়ে কই মাছের চাষ সম্ভব। বাড়িতে সহজে কই মাছের চাষ করা যায়। বাজার মূল্য ভালো থাকায় এই মাছের চাষ লাভজনক। তাই এই মাছ চাষের মাধ্যমে কর্ম সংস্থান বাড়াতে বেকার যুবক- যুবতীদের এই মাছ চাষের প্রশিক্ষণ দেওয়া চলছে। এবং এই বিলুপ্ত মাছ ফেরাতে সরকারি উদ্যোগে মাছের চারা তৈরি করা হচ্ছে।’ সরকারি উদ্যোগে শুধু কৈ মাছ নয় সিংহী মাগুরসহ অন্যান্য জিওল মাছেরও চারা এবং মাছ চাষ সম্প্রসারণ এর জন্য বিভিন্ন পদ্ধতি অবলম্বন করা হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *