মালদা, নিজস্ব সংবাদদাতা: প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা (PMAY)-র প্রকৃত উপভোক্তার পরিচয় ব্যবহার করে সরকারি অনুদানের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে মালদার কালিয়াচক-২ ব্লকের বাঙ্গীটোলা গ্রাম পঞ্চায়েতের এক তৃণমূল সদস্যা ও তাঁর স্বামীর বিরুদ্ধে। অভিযোগ, প্রকল্পের টাকা প্রতারণার মাধ্যমে অন্য ব্যক্তির ব্যাংক অ্যাকাউন্টে স্থানান্তর করা হয়েছে। প্রাপ্য অর্থ ফেরত ও অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে কালিয়াচক-২ ব্লকের বিডিওর কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন বঞ্চিত উপভোক্তারা।
অভিযোগ অনুযায়ী, বাঙ্গীটোলা গ্রাম পঞ্চায়েতের দড়ি দিয়ারা এলাকার বাসিন্দা মানবী মণ্ডল, তাঁর স্বামী রঞ্জিত মণ্ডল এবং নবকুমার মণ্ডলের স্ত্রী ভাসানী মণ্ডলের নামে প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার ঘর অনুমোদিত হয়। কিন্তু দীর্ঘদিন কেটে গেলেও তাঁদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে সরকারি অনুদানের টাকা জমা পড়েনি।
উপভোক্তাদের দাবি, তৃণমূলের গ্রাম পঞ্চায়েত সদস্যা অনিমা মণ্ডলের স্বামী গুদুর মণ্ডল ঘর অনুমোদনের কথা জানিয়ে প্রয়োজনীয় নথি, ছবি ও অন্যান্য তথ্য সংগ্রহ করেন। পরে টাকা না আসায় সন্দেহ হওয়ায় তাঁরা অনলাইনে নিজেদের প্রকল্পের তথ্য যাচাই করেন। সেখানে তাঁদের নাম থাকলেও ছবি ও ব্যাংক অ্যাকাউন্টের তথ্য অন্য ব্যক্তির বলে দেখতে পান। অভিযোগ, এভাবেই সরকারি অনুদানের অর্থ অন্যের অ্যাকাউন্টে পাঠিয়ে আত্মসাৎ করা হয়েছে।
শুধু আর্থিক অনিয়ম নয়, সরকারি জিও-ট্যাগেও অন্য ব্যক্তির ছবি ব্যবহার করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন মানবী মণ্ডল ও নবকুমার মণ্ডল। তাঁদের দাবি, সরকারি নথিতে ভুয়ো তথ্য তুলে ধরে গোটা অনিয়ম আড়াল করার চেষ্টা হয়েছে।
এ বিষয়ে কালিয়াচক-২ ব্লকের বিডিও কৈলাস প্রসাদ জানান, অভিযোগ পাওয়া গেছে। পুরো বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তদন্তে কেউ দোষী প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অন্যদিকে, অভিযুক্ত তৃণমূল পঞ্চায়েত সদস্যার স্বামী গুদুর মণ্ডল সংবাদমাধ্যমের ক্যামেরার সামনে না এলেও মৌখিকভাবে সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি, অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। নথি সংগ্রহ, ছবি তোলা ও ব্যাংক অ্যাকাউন্ট সংক্রান্ত সমস্ত কাজ ব্লক প্রশাসনের কর্তৃপক্ষই করেছেন। টাকা কেন জমা পড়েনি, তা প্রশাসনের তদন্তেই স্পষ্ট হবে। এতে পঞ্চায়েত সদস্যের কোনও ভূমিকা নেই বলেও দাবি তাঁর।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক চাপানউতোরও শুরু হয়েছে। বিজেপি নেতা নিবারণ ঘোষ দাবি করেন, তৃণমূল আমলে প্রকৃত উপভোক্তারা বঞ্চিত হয়েছেন এবং এই ধরনের আর্থিক অনিয়মের পূর্ণাঙ্গ তদন্ত হওয়া উচিত। তদন্তে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।
পাল্টা তৃণমূল নেতা বিশ্বজিৎ ঘোষ বলেন, “যে-ই দোষী হোক না কেন, ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া উচিত। তদন্তে যদি কারও গাফিলতি বা অনিয়ম প্রমাণিত হয়, তবে তার বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হোক।”
উপভোক্তার দাবি, আইডি ব্যবহার করে অন্যের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে স্থানান্তর হয়েছে অনুদানের টাকা; তদন্তের আশ্বাস ব্লক প্রশাসনের।












Leave a Reply