ধূপগুড়ি, নিজস্ব সংবাদদাতা : – এক বছরের ব্যবধান, কিন্তু দুর্ভোগ ও আতঙ্কের ছবিটা বিন্দুমাত্র বদলায়নি। জলপাইগুড়ি জেলার ধূপগুড়ি ব্লকের গধেয়ারকুঠি গ্রাম পঞ্চায়েতের বাসিন্দারা ৫ সেপ্টেম্বরের সেই ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা মনে করে আজও শিউরে ওঠেন। বর্ষার মরশুম ঘনিয়ে আসতেই নদী তীরবর্তী মানুষের রাতের ঘুম উবে গিয়েছে, নতুন করে দানা বাঁধছে বাঁধ ভাঙা প্লাবনের আশঙ্কা।
স্থানীয় সূত্রে খবর, গত বছরের বিধ্বংসী বন্যায় এলাকায় ব্যপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল। একাধিক গৃহহীন পরিবারকে সরকারি সাহায্য এবং বাঁধ মেরামতের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও বাস্তবে তা পুরোপুরি কার্যকর হয়নি। নদী বাঁধের বিভিন্ন স্থানে পাথর ও বোল্ডারের গার্ডওয়াল এখনও পর্যন্ত ভাঙাচোরা অবস্থায় পড়ে রয়েছে। যদিও কিছু অংশে মেরামতের কাজ করা হয়েছিল, কিন্তু তার স্থায়িত্ব এবং মান নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন খোদ গ্রামবাসীরাই।
গধেয়ারকুঠির স্থানীয় বাসিন্দা শুভলা রায় ক্ষোভের সাথে জানান, সরকারি তরফ থেকে ঘর তৈরির জন্য ৬০,০০০ টাকার যে আর্থিক সহায়তা পাওয়ার কথা বলা হয়েছিল, তা একবার মিললেও পর্যাপ্ত নয়। উপরন্তু বিডিও অফিস বা প্রশাসনিক স্তরে গিয়েও সঠিক সদুত্তর মিলছে না বলে অভিযোগ তাঁদের। বর্তমানে সামান্য বৃষ্টি হলেই নদী জলস্ফীতি ঘটিয়ে এলাকায় জল ঢুকিয়ে দেবে কি না, তা নিয়ে উৎকণ্ঠায় রাত কাটাচ্ছেন বাসিন্দারা। ঘরের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র তড়িঘড়ি কাপড়ে বেঁধে প্রস্তুত রাখতে হচ্ছে তাঁদের, যেন যেকোনো মুহূর্তে নিরাপদে নিরাপদ আশ্রয়ে পালিয়ে যাওয়া যায়।
অন্যদিকে, অপর স্থানীয় বাসিন্দা পরিমল মণ্ডলের কথায়, রাজনৈতিক প্রতিনিধিরা বা স্থানীয় বিধায়ক বারবার এসে আশ্বাস দিয়ে গেলেও কাজের কাজ কিছু হয়নি। তাঁর দাবি, “ডাবল ইঞ্জিন সরকার বা পরিবর্তনের কথা বলা হলেও এলাকায় গতি পায়নি কোনো কাজই। প্রায় ৫০টিরও বেশি পরিবার এখনও পর্যন্ত নিজেদের মাথার উপর স্থায়ী ছাদ তৈরি করে উঠতে পারেননি, অনেকেই প্লাস্টিকের টাঙানো তাঁবু বা অন্যের বাড়িতে আশ্রয় নিয়ে দিন কাটাচ্ছেন।”
প্রশাসনের তরফ থেকে বর্ষা শেষ হলে পূর্ণাঙ্গ কাজ শুরুর প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও, বর্তমান পরিস্থিতিতে নদী সংলগ্ন ভাঙা বাঁধ ও গভীর গর্তগুলো গ্রামবাসীর নিরাপত্তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন তুলে দিয়েছে। প্রকৃতির খামখেয়ালিপনা আর প্রশাসনিক দীর্ঘসূত্রতার ফাঁদে পড়ে এখন এক অদ্ভুত আতঙ্কের দিন গুনছেন ধূপগুড়ির এই সীমান্ত এলাকা গধেয়ারকুঠির মানুষজন।
বন্যার এক বছর পরও মেলেনি স্বস্তি, ভাঙাচোরা বাঁধ নিয়ে দুশ্চিন্তায় গধেয়ারকুঠি।












Leave a Reply