মালদা, নিজস্ব সংবাদদাতা:- জোড়া অভিযোগ তৃণমূল বিধায়কের বিরুদ্ধে। মালতিপুরের তৃণমূল বিধায়ক আব্দুর রহিম বকশির বিরুদ্ধে জমি দখলের অভিযোগ। মালদার রতুয়ার ঘটনা।
রতুয়া থানার রুকুন্দিপুরের বাসিন্দা শকুন্তলা ঘোষ রতুয়া থানায় অভিযোগ করেছেন। রতুয়া বিডিও অফিসের সামনে তাদের একটি আসি শতক দেবতর সম্পত্তি রয়েছে। তার মধ্যে ৬০ শতক জমি দখল করেছেন আব্দুর রহিম বক্সী সহ ৮ জন ব্যক্তি।
শকুন্তলা ঘোষের ছেলে বলেন রতুয়ার রুকুনদীপুরে তাদের একটি মন্দির রয়েছে, রতুয়া বিডিও অফিসের কাছে সেই মন্দিরের একটি দেবতর সম্পত্তি রয়েছে। ২০১৫ সালে তাদের এই জমিটি দখল হয়ে যায়। এর আগেও বারবার তিনি অভিযোগ জানিয়েছেন। কিন্তু কোন লাভ হয়নি। সেই সময় তৃণমূলের সরকার ছিল রহিম বকশি তৃণমূলের বিধায়ক তথা জেলা তৃণমূলের সভাপতি ছিলেন আর সেই কারণে পুলিশ কোন ব্যবস্থা নেয় নি। তাদেরকে মাঝেমধ্যেই হুমকি দেওয়া হতো।
সরকার পরিবর্তনের পর তার মা থানায় অভিযোগ জানিয়েছেন তারা তাদের মন্দিরের এই দেবতর সম্পত্তি ফেরত চান। আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা চান।
যদিও সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন আব্দুর রহিম বক্সী। তিনি বলেন যেই জমিটির কথা বলা হচ্ছে। সেই শকুন্তলা ঘোষের সাথে আমার আগে সেটেলমেন্ট হয়ে গিয়েছিল এখন কেন অভিযোগ করছে বুঝতে পারছি না। আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র চলছে।
ঠিক পাশাপাশি আব্দুর রহিম বক্সীর বিরুদ্ধে আরেকটি অভিযোগ। এবার জমি দখলের অভিযোগ। এবার সরকারি জমি দখলের অভিযোগে থানায় অভিযোগ দায়ের মালতি পুরের তৃণমূল বিধায়কের বিরুদ্ধে। আর এসপির জেলা সম্পাদক সর্বানন্দ পান্ডের অভিযোগ, যে জায়গাটিতে আব্দুর রহিম বক্সী তার এনজিও ও স্কুল করেছে সেটি সেচ দপ্তরের জায়গা। প্রয়াত গনি খান চৌধুরী যখন রাজ্যের সেচমন্ত্রী ছিলেন সেই আমলে ওইখানে সেচ দপ্তর একটি ইনস্পেকশন বাংলো করে। পরবর্তী কালে বামফ্রন্ট আমলে সেটি সংস্কার হয়। বাংলার অবশিষ্ট জমি বামফ্রন্টের সময় রহিম বকশি তার এনজিও সংস্থার মাধ্যমে লিজ নেয়। কিন্তু সেটি আর রিনিউ করেনি। এরপর অবৈধভাবে সরকারি জায়গা দখল করে নির্মাণ কার্য চালিয়েছে। এখনো সেই জমি দখল করে রয়েছে। জমিতে রয়েছে তার এনজিও সংস্থার দপ্তর ও তার প্রাইভেট স্কুল। আমি এর আগে বারবার অভিযোগ জানিয়েছি কিন্তু কোন লাভ হয়নি। সরকার পরিবর্তনের পর থানায় অভিযোগ করেছি।
মিথ্যাও ভিত্তিহীন অভিযোগ পালটা দাবি আব্দুর রহিম বক্সির।
এবার পার পাওয়া যাবে না কটাক্ষ বিজেপি নেতৃত্বের।
তীব্র কটাক্ষ করেছে বিজেপি উত্তর মালদা সাংগঠনিক জেলা সাধারণ সম্পাদক অভিষেক সিংহানিয়া, তিনি বলেন এতদিন তৃণমূলের পায়জামা পাঞ্জাবি পরা এই ল্যান্ড মাফিয়ারা যা খুশি করতো এবার এরা ঠেলা বুঝতে পারবে। পুলিশ আইন অনুযায়ী যা ব্যবস্থা নেওয়ার নেবে।
জেলার পুলিশ সুপার অনুপম সিং বলেন অভিযোগ পেয়েছি ঘটনা তদন্ত শুরু হয়েছে।
জমি দখল বিতর্কে সরগরম মালদা, সব অভিযোগ অস্বীকার আব্দুর রহিম বক্সীর।












Leave a Reply