পশ্চিম মেদিনীপুর, নিজস্ব সংবাদদাতা:- গেরুয়া, সাদা ও সবুজ—এই তিন রঙের কাপড় ও ভেলভেট দিয়ে তৈরি গলার হার, কানের দুল, কপালের টিকলি ও দুই হাতের রিস্ট ব্যান্ড। সব মিলিয়ে তৈরি হচ্ছে আকর্ষণীয় একটি তেরঙ্গা সেট। ৮০তম স্বাধীনতা দিবসের প্রাক্কালে সেই তেরঙ্গা সেটের চাহিদা এখন তুঙ্গে। পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার মেদিনীপুর শহরের বিভিন্ন বাজারে ব্যাপক হারে বিক্রি হচ্ছে এই সামগ্রী। শুধু গলার সেটই নয়, আলাদাভাবে বিক্রি হচ্ছে তেরঙ্গা হেয়ার ব্যান্ডও। বিশেষ করে স্কুলপড়ুয়া ছোট ছোট মেয়েদের মধ্যে এই সামগ্রীর চাহিদা সবচেয়ে বেশি বলে জানিয়েছেন বিক্রেতারা।
আর মাত্র কয়েক দিনের অপেক্ষা। তারপরই ১৫ আগস্ট, স্বাধীনতা দিবস। সেই উপলক্ষে জাতীয় পতাকা ও তেরঙ্গা সামগ্রীর পসরা সাজিয়ে বসেছেন ব্যবসায়ীরা। বিভিন্ন আকারের জাতীয় পতাকার পাশাপাশি বিক্রি হচ্ছে তিন রঙের টুপি, ব্যাজ, রিস্ট ব্যান্ড, স্ট্যান্ডে লাগানো ছোট জাতীয় পতাকা, মোটরসাইকেলে লাগানোর পতাকা, তেরঙ্গা ফুলঝুরি-সহ একাধিক সামগ্রী। পাশাপাশি স্বাধীনতা সংগ্রামী ও বিপ্লবীদের ছোট ছোট মূর্তিও বিক্রি হচ্ছে। তবে সবকিছুকে ছাপিয়ে সবচেয়ে বেশি চাহিদা রয়েছে গেরুয়া, সাদা ও সবুজ রঙের গলার সেটের। তিন রঙের কাপড় ও ভেলভেট দিয়ে ফুলের নকশা এবং সূক্ষ্ম কারুকার্যের মাধ্যমে তৈরি করা হয়েছে এই সেট। একই নকশায় তৈরি করা হয়েছে কানের দুল, কপালের টিকলি ও রিস্ট ব্যান্ডও। বাজারে এই সেটের দাম ৮০ থেকে ১০০ টাকার মধ্যে। অন্যদিকে বিভিন্ন নকশার তেরঙ্গা হেয়ার ব্যান্ড পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ১০ টাকায়। বিক্রেতাদের দাবি, স্বাধীনতা দিবসের কয়েক দিন আগে থেকেই এই সমস্ত সামগ্রীর বিক্রি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়। স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে জেলার বিভিন্ন প্রান্তে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, দেশাত্মবোধক গান, নৃত্য ও আবৃত্তির আয়োজন করা হয়। সেই সমস্ত অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী শিল্পী, বিশেষ করে ছোট ছোট ছেলে-মেয়েরাই এই ধরনের তেরঙ্গা সামগ্রীর প্রধান ক্রেতা। রাজ্যজুড়ে ‘হর ঘর তিরঙ্গা’ কর্মসূচি পালনের আহ্বান জানানো হয়েছে। সেই কর্মসূচিকে সামনে রেখে জেলার বিভিন্ন এলাকায় আয়োজন করা হচ্ছে তেরঙ্গা যাত্রাও। সম্প্রতি মেদিনীপুরের বিধায়ক শংকর গুছাইত তাঁর বিধায়ক কার্যালয় থেকে সাধারণ মানুষের মধ্যে জাতীয় পতাকা বিতরণ করেছেন। ১৫ আগস্ট প্রত্যেকের বাড়ি, স্কুল, কলেজ, অফিস, দোকান ও ক্লাবে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের প্রস্তুতি চলছে। বিভিন্ন তেরঙ্গা যাত্রায় ছাত্রছাত্রী থেকে সাধারণ মানুষের ব্যাপক অংশগ্রহণের ফলে জাতীয় পতাকার পাশাপাশি তেরঙ্গা সামগ্রীর চাহিদাও বেড়েছে। মেদিনীপুর শহরের জেলা পরিষদ রোডের এক বিক্রেতা অমরনাথ ঘোরোই বলেন, “১৫ আগস্টের আগে থেকেই বিভিন্ন ধরনের অনুষ্ঠান শুরু হয়ে যায়। বিশেষ করে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত শিল্পীদের এই ধরনের সামগ্রীর প্রয়োজন হয়। তাই এই সময়ে তেরঙ্গা সামগ্রীর বিক্রিও অনেক বেড়ে যায়।”
গেরুয়া-সাদা-সবুজে সাজছে মেদিনীপুর, তেরঙ্গা গলার সেট কিনতে বাড়ছে ভিড়।












Leave a Reply