চুয়াড় বিদ্রোহের স্মৃতিবিজড়িত আমশোলে স্বাধীনতা দিবসে পতাকা উত্তোলন, গোবর্ধনপতির আবক্ষ মূর্তির প্রতিশ্রুতি বিধায়কের।

পশ্চিম মেদিনীপুর, নিজস্ব সংবাদদাতা: ৮০তম স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার গড়বেতা-৩ ব্লকের প্রত্যন্ত আমশোল গ্রামে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করলেন শালবনীর বিধায়ক বিমান মাহাতো। অনুষ্ঠানে তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন গড়বেতা-৩ ব্লকের বিডিও দীপাঞ্জন ভট্টাচার্য এবং বিশিষ্ট সমাজসেবী সুশান্ত কারক।

স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানের জন্য হঠাৎ করে আমশোল গ্রামকে বেছে নেওয়া হল কেন—তা নিয়ে প্রথম থেকেই কৌতূহল তৈরি হয় এলাকাবাসীর মধ্যে। জানা যায়, ইতিহাসের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িয়ে রয়েছে এই গ্রামের নাম। কথিত আছে, চুয়াড় বিদ্রোহের সময় এই আমশোলের মাটিতেই ইংরেজদের কাছে আত্মসমর্পণ না করে স্বেচ্ছায় প্রাণ বিসর্জন দিয়েছিলেন স্বাধীনতা সংগ্রামী তথা চুয়াড় বিদ্রোহের অন্যতম নায়ক গোবর্ধনপতি।

ইতিহাসের সেই স্মৃতিবিজড়িত স্থানেই স্বাধীনতা দিবসের দিন জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত অতিথিরা স্বাধীনতা সংগ্রামীদের আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করেন। পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের কাছে দেশের স্বাধীনতা আন্দোলন এবং স্থানীয় ইতিহাস তুলে ধরার প্রয়োজনীয়তার ওপরও গুরুত্ব আরোপ করা হয়।

পতাকা উত্তোলনের পর শালবনীর বিধায়ক বিমান মাহাতো আমশোলের এই ঐতিহাসিক স্থানে স্বাধীনতা সংগ্রামী গোবর্ধনপতির একটি আবক্ষ মূর্তি নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দেন। তাঁর এই ঘোষণায় খুশি এলাকাবাসী। দীর্ঘদিন ধরে ইতিহাসের পাতায় থাকা এই বীরের স্মৃতিকে যথাযথভাবে সংরক্ষণ করা হলে আগামী প্রজন্মও তাঁর আত্মত্যাগ সম্পর্কে জানতে পারবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

স্বাধীনতা দিবসের দিনে চুয়াড় বিদ্রোহের স্মৃতিবিজড়িত আমশোলে জাতীয় পতাকা উত্তোলন এবং গোবর্ধনপতির আবক্ষ মূর্তি নির্মাণের ঘোষণাকে ঘিরে তাই এলাকায় তৈরি হয়েছে বিশেষ আবেগ ও উৎসাহের পরিবেশ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *