ডিমের ব্রেড পকেট — মচমচে ব্রেডের ভিতরে মশলাদার ডিমের পুর।

ব্রেড দিয়ে সাধারণ স্যান্ডউইচ বা টোস্ট তো প্রায়ই তৈরি করা হয়। কিন্তু সেই পরিচিত ব্রেডকেই যদি পকেটের মতো বানিয়ে তার ভিতরে ভরে দেওয়া যায় মশলাদার ডিমের পুর, তাহলে তৈরি হয় একেবারে অন্যরকম একটি নাশতা—ডিমের ব্রেড পকেট।

বাইরের ব্রেড হবে হালকা মচমচে, আর ভিতরে থাকবে নরম ডিম, পেঁয়াজ, ক্যাপসিকাম ও মশলার পুর। চাইলে চিজ যোগ করে এটিকে আরও সুস্বাদু করা যায়।


উপকরণ

ব্রেড পকেটের জন্য

  • সাদা বা ব্রাউন ব্রেড – ৮টি
  • ডিম – ৩টি
  • পেঁয়াজ – ১টি মাঝারি, কুচি
  • ক্যাপসিকাম – ½টি, কুচি
  • গাজর – ½টি, কুচি
  • কাঁচা লঙ্কা – ১টি, কুচি
  • ধনেপাতা – ২ টেবিল চামচ, কুচি
  • গোলমরিচগুঁড়ো – ¼ চা-চামচ
  • লঙ্কাগুঁড়ো – ¼ চা-চামচ
  • জিরেগুঁড়ো – ¼ চা-চামচ
  • চাট মশলা – ½ চা-চামচ
  • নুন – স্বাদমতো
  • তেল – ১ টেবিল চামচ

বাইরের আবরণের জন্য

  • ময়দা – ২ টেবিল চামচ
  • জল – প্রয়োজনমতো
  • ব্রেডক্রাম্ব – ১ কাপ
  • ডিম – ১টি
  • নুন – এক চিমটি
  • গোলমরিচগুঁড়ো – এক চিমটি
  • তেল – ভাজার জন্য

অতিরিক্ত

  • কোরানো চিজ – ½ কাপ, ইচ্ছেমতো
  • টমেটো সস – পরিবেশনের জন্য
  • চিলি সস – পরিবেশনের জন্য

ডিমের পুর তৈরি

প্রথমে তিনটি ডিম একটি বাটিতে ভেঙে নিন।

সামান্য নুন ও গোলমরিচ দিয়ে ভালোভাবে ফেটিয়ে রাখুন।

এবার একটি প্যান গরম করুন।

এক টেবিল চামচ তেল দিন।

কুচি করা পেঁয়াজ দিয়ে ১–২ মিনিট ভাজুন।

পেঁয়াজ হালকা স্বচ্ছ হলে কাঁচা লঙ্কা যোগ করুন।

এরপর গাজর ও ক্যাপসিকাম দিয়ে ২ মিনিট ভাজুন।

সবজি পুরোপুরি নরম করবেন না।

এবার ফেটানো ডিম ঢেলে দিন।

ডিম জমতে শুরু করলে স্প্যাচুলা দিয়ে ধীরে ধীরে নাড়ুন।

ডিমের বড় বড় নরম টুকরো তৈরি হতে দিন।

এরপর লঙ্কাগুঁড়ো, জিরেগুঁড়ো ও চাট মশলা দিন।

সবশেষে ধনেপাতা দিয়ে মিশিয়ে চুলা বন্ধ করুন।

পুরটি ঠান্ডা হতে দিন।


ব্রেড প্রস্তুত করা

ব্রেডের চারপাশের শক্ত বাদামি অংশ থাকলে ছুরি দিয়ে কেটে বাদ দিতে পারেন।

এরপর একটি বেলন দিয়ে প্রতিটি ব্রেড খুব হালকা করে বেলে পাতলা করে নিন।

ব্রেড বেশি পাতলা করবেন না।

পাতলা হলে পকেট বানানোর সময় ছিঁড়ে যেতে পারে।

একটি ব্রেডের মাঝখানে ১–২ টেবিল চামচ ডিমের পুর রাখুন।

চাইলে পুরের ওপর সামান্য কোরানো চিজ দিন।


ব্রেড পকেট বন্ধ করা

এবার ব্রেডের চারপাশে সামান্য জল লাগান।

অন্য একটি ব্রেড দিয়ে পুরটি ঢেকে দিন।

চারদিক আঙুল দিয়ে ভালোভাবে চেপে বন্ধ করুন।

তারপর কাঁটাচামচ দিয়ে চারপাশের প্রান্ত হালকা চাপ দিয়ে আটকে দিন।

এতে দেখতে সুন্দর নকশাও তৈরি হবে এবং ভাজার সময় পুর বাইরে বেরিয়ে আসবে না।

একইভাবে বাকি ব্রেড পকেট তৈরি করুন।


ময়দার মিশ্রণ তৈরি

একটি বাটিতে দুই টেবিল চামচ ময়দা নিন।

অল্প অল্প করে জল দিয়ে মিশিয়ে পাতলা ব্যাটার তৈরি করুন।

ব্যাটার খুব ঘন করবেন না।

অন্য একটি বাটিতে একটি ডিম ফেটিয়ে নিন।

এর মধ্যে এক চিমটি নুন ও গোলমরিচ দিন।

আরেকটি প্লেটে ব্রেডক্রাম্ব রাখুন।

এখন তিনটি আলাদা ধাপ তৈরি হবে—

ময়দার ব্যাটার → ডিম → ব্রেডক্রাম্ব


ব্রেড পকেট কোটিং

প্রথমে তৈরি করা ব্রেড পকেটটি ময়দার ব্যাটারে ডুবিয়ে নিন।

তারপর ফেটানো ডিমে হালকা করে ডুবিয়ে নিন।

সবশেষে ব্রেডক্রাম্বের মধ্যে রেখে চারদিকে ভালোভাবে কোট করুন।

হাত দিয়ে খুব বেশি চাপ দেবেন না।

তবে চারপাশে ব্রেডক্রাম্ব যেন ভালোভাবে লেগে থাকে।


তেলে ভাজার পদ্ধতি

একটি কড়াইতে পর্যাপ্ত তেল গরম করুন।

তেল মাঝারি গরম হলে ব্রেড পকেট ছেড়ে দিন।

একসঙ্গে অনেকগুলো দেবেন না।

এক পাশে সোনালি হলে উল্টে দিন।

দুই পাশই সুন্দর সোনালি ও মচমচে হওয়া পর্যন্ত ভাজুন।

তেল থেকে তুলে টিস্যু পেপারের ওপর রাখুন।


কম তেলে প্যানে তৈরি

ডিপ ফ্রাই না করতে চাইলে অল্প তেল দিয়েও এটি তৈরি করা যায়।

একটি নন-স্টিক প্যান গরম করুন।

১–২ টেবিল চামচ তেল দিন।

কোট করা ব্রেড পকেট প্যানে রাখুন।

মাঝারি থেকে কম আঁচে দুই পাশ ধীরে ধীরে সেঁকে নিন।

প্রয়োজনে পাশে সামান্য তেল ব্রাশ করুন।

এভাবে বাইরেটা মচমচে হবে এবং তেলও তুলনামূলক কম লাগবে।


এয়ার ফ্রায়ারে তৈরি

এয়ার ফ্রায়ার ব্যবহার করলেও ব্রেড পকেট তৈরি করা যায়।

কোটিং করার পর ব্রেড পকেটের ওপর সামান্য তেল ব্রাশ করুন।

এয়ার ফ্রায়ারে প্রায় ১৮০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় ৮–১২ মিনিট রান্না করতে পারেন।

মাঝামাঝি সময়ে একবার উল্টে দিলে দুই পাশ সমানভাবে মচমচে হবে।

তবে যন্ত্রভেদে সময় কিছুটা কমবেশি হতে পারে।


চিজি ডিমের ব্রেড পকেট

চিজ পছন্দ করলে ডিমের পুরের সঙ্গে মোজারেলা বা প্রসেসড চিজ ব্যবহার করা যায়।

ব্রেডের মাঝখানে প্রথমে ডিমের পুর দিন।

তারপর মাঝখানে এক চামচ কোরানো চিজ দিন।

পকেট বন্ধ করে ভাজুন।

কেটে দেখলে ভিতরে গরম নরম চিজের স্তর পাওয়া যাবে।


চিকেন-ডিম ব্রেড পকেট

এই রেসিপিটিকে আরও সমৃদ্ধ করতে ডিমের পুরের সঙ্গে সামান্য রান্না করা চিকেন কুচি যোগ করা যায়।

চিকেন আগে নুন, গোলমরিচ ও সামান্য আদা-রসুন দিয়ে রান্না করে নিন।

তারপর ডিমের পুরের সঙ্গে মিশিয়ে ব্রেডে ভরুন।

এতে এটি আরও পেটভরা নাশতা হয়ে উঠবে।


আলু-ডিমের পুর

ডিমের সঙ্গে সামান্য সেদ্ধ আলু মিশিয়েও পুর তৈরি করা যায়।

সেদ্ধ আলু চটকে নিয়ে ডিম, পেঁয়াজ, কাঁচা লঙ্কা, ধনেপাতা ও চাট মশলার সঙ্গে মিশিয়ে নিন।

এই পুর ব্রেডের মধ্যে ভরলে স্বাদ অনেকটা মশলাদার স্ন্যাকসের মতো হবে।


ব্রেড যাতে ফেটে না যায়

১. ব্রেড খুব বেশি পাতলা করে বেলবেন না।

২. পুর অতিরিক্ত দেবেন না।

৩. ব্রেডের প্রান্ত ভালোভাবে বন্ধ করুন।

৪. পুর সম্পূর্ণ ঠান্ডা করে তারপর ব্রেডে ভরুন।

৫. তেলে দেওয়ার আগে কোটিং ঠিকভাবে হয়েছে কি না দেখে নিন।

৬. তেল অতিরিক্ত গরম হলে বাইরের অংশ দ্রুত পুড়ে যেতে পারে অথচ ভিতর ভালোভাবে গরম হবে না।


পরিবেশনের পদ্ধতি

গরম গরম ব্রেড পকেট তির্যকভাবে কেটে পরিবেশন করুন।

সঙ্গে টমেটো সস, চিলি সস বা পুদিনার চাটনি রাখা যায়।

উপর থেকে সামান্য ধনেপাতা ও চাট মশলা ছড়িয়ে দিলে স্বাদ আরও বাড়বে।

বিকেলের চায়ের সঙ্গে এটি পরিবেশন করা যায়।

শিশুদের টিফিনের জন্য তৈরি করলে ঝাল কমিয়ে দিন।


রান্নার সময়

প্রস্তুতির সময়: ২০ মিনিট
পুর তৈরির সময়: ১০ মিনিট
পকেট তৈরি ও কোটিং: ১৫ মিনিট
ভাজার সময়: ১০ মিনিট
মোট সময়: প্রায় ৫৫ মিনিট

পরিমাণ: ৪ জনের জন্য


উপসংহার

সাধারণ ব্রেড ও ডিম দিয়েই খুব সহজে তৈরি করা যায় ডিমের ব্রেড পকেট। বাইরের মচমচে আবরণ আর ভিতরের নরম মশলাদার ডিমের পুর এই খাবারের প্রধান আকর্ষণ।

সবচেয়ে ভালো বিষয় হল, একই পদ্ধতিতে ডিমের সঙ্গে আলু, চিকেন, চিজ কিংবা বিভিন্ন সবজি ব্যবহার করে এর স্বাদ বদলে নেওয়া যায়। বিকেলের নাশতা, স্কুল-অফিসের টিফিন কিংবা অতিথি আপ্যায়ন—বিভিন্ন ক্ষেত্রেই এটি পরিবেশন করা যেতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *