পশ্চিম মেদিনীপুর, নিজস্ব সংবাদদাতা:-এক সপ্তাহ আগেই ৭ আগস্ট ঝাড়গ্রামের রমরমা বিটে কংসাবতী নদীর তীরে একটি পূর্ণবয়স্ক হাতির সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েছিল জঙ্গলমহলের পরিচিত হাতি ‘রামলাল’। দুই হাতির সেই লড়াইয়ের ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপকভাবে ভাইরাল হয়েছিল। সেই ঘটনার পর থেকেই মেদিনীপুর সদর ব্লকের চাঁদড়া রেঞ্জের সিরসী গ্রামের গভীর জঙ্গলে অবস্থান করছিল রামলাল। বৃহস্পতিবার সকালে হঠাৎ জঙ্গল ছেড়ে লোকালয়ে চলে আসে হাতিটি। গ্রামের রাস্তা দিয়ে হেলেদুলে হাঁটা, রাস্তার ধারের কলাগাছ টেনে খাওয়া—সব মিলিয়ে রামলালকে দেখতে কৌতূহলী মানুষের ভিড় উপচে পড়ে। কেউ দাঁত মাজার ব্রাশ হাতে, কেউ আবার বাচ্চাকে কোলে নিয়ে ছুটে যান হাতি দেখতে। চাঁদড়া রেঞ্জের বনকর্মী খোকন মাহাতোর কথায়, রামলাল সম্ভবত সেই লড়াইয়ের হাতিটিকেই খুঁজছে। পাশাপাশি খাবারের সংকটও একটি কারণ হতে পারে। তিনি জানান, গত কয়েক দিন ধরেই সিরসী গ্রামের জঙ্গলে রয়েছে হাতিটি। মাঝেমধ্যেই খাবারের সন্ধানে জঙ্গল ছেড়ে লোকালয়ে চলে আসছে। ফলে বনকর্মীদের বারবার হাতিটিকে গভীর জঙ্গলে ফিরিয়ে নিয়ে যেতে হচ্ছে।
গত ৭ আগস্ট ঝাড়গ্রামের রমরমা বিটে দীর্ঘক্ষণ ধরে দুই হাতির মধ্যে শক্তি প্রদর্শনের ঘটনা ঘটে। একে অপরের শুঁড় পেঁচিয়ে, দাঁতে দাঁত লাগিয়ে ধস্তাধস্তি করতে দেখা যায় তাদের। দীর্ঘ সময় ধরে চলা সেই সংঘর্ষে উভয় হাতিই নিজেদের শক্তি ও আধিপত্য প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছিল। পরে বনকর্মী ও স্থানীয় মানুষের হইচই এবং চিৎকারে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।জঙ্গলমহল এলাকায় প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী, জঙ্গলে আধিপত্য বিস্তার এবং এলাকা দখলকে কেন্দ্র করে পুরুষ হাতিদের মধ্যে মাঝেমধ্যেই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। স্থানীয় গ্রামবাসীদের দাবি, সংঘর্ষের পর রামলাল দীর্ঘক্ষণ কংসাবতী নদীর জলে শরীর ডুবিয়ে রেখে নিজেকে শান্ত করেছিল। এরপরই সে সিরসী গ্রামের জঙ্গলে আশ্রয় নেয়।
বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে পাঁচটা নাগাদ গ্রামে ঢুকে পড়ে রামলাল। সাধারণত হাতির প্রবেশে গ্রামবাসীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লেও রামলালের ক্ষেত্রে চিত্রটা ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। কারণ, স্থানীয়দের মতে, শান্ত স্বভাবের এই হাতি সহজে আক্রমণ করে না। তাই আতঙ্কের পরিবর্তে অনেকেই তাকে খাবার দিয়ে আপ্যায়ন করার চেষ্টা করেন। কয়েক ঘণ্টা গ্রামে কাটানোর পর বন দফতরের কর্মীরা হাতিটিকে আবার গভীর জঙ্গলের দিকে ফিরিয়ে নিয়ে যান।












Leave a Reply