পূর্ব মেদিনীপুর, নিজস্ব সংবাদদাতাঃ- এক পায়ের দৌড়েই
অনামিকা অনেকের থেকে এগিয়ে পূর্ব মেদিনীপুর জেলার কোলাঘাটের বোরডাঙ্গি গ্রামের অনামিকা দাস। জানা গিয়েছে পড়াশোনা বাথানবেড়িয়া শ্রীনিবাস বিদ্যামন্দিরে।
জন্মলগ্ন থেকেই বাঁ পায়ের হাঁটুর নীচ থেকে নেই। সরকার স্বীকৃত ৯০% প্রতিবন্ধী অনামিকা। হাঁটাচলা থেকে সবরকম চলাফেরা ওই একটি পায়ের উপর নির্ভর করে।
বাবা অনুকূল দাস ভিন রাজ্যে সোনার কাজ করে যৎসামান্য আয় করেন। হতদরিদ্র সংসারে মা অসীমা বহুকষ্টে কোনরকমে জোড়াতালি দিয়ে সংসার চালান।
কোলাঘাট বোরডাঙ্গি গ্রামে জশাড় রোডের পাশেই একচিলতে মাথা গোঁজার ঠাঁই।
অনামিকা এবারে মাধ্যমিক পরীক্ষায় ৪৩৫ নম্বরে প্রথম বিভাগে উত্তীর্ণ হয়ে একপায়ের দৌড়ে অনেককেই পেছনে ফেলে এগিয়ে আছে।
অনামিকা আরো অনেক পড়াশোনা করে ওই এক পায়েই দাঁড়িয়ে জীবনে প্রতিষ্ঠিত হতে চায়। বড় হয়ে ওর মত দূর্ভাগ্যগ্রস্থ মানুষের পাশে থাকতে চায়।
কিন্তু চরম দারিদ্র্যতার কাছে হার মানতে চলেছে এই গরীব ঘরের ছাত্রিটির অদম্য জেদ ও মনের জোর।
মা বলেছে আর পড়ানো সম্ভব নয়। কি ভাবেই বা সম্ভব!
ওর মা অসীমা দেবীর কথায়,-” স্কুলের ফি থেকে প্রতি মাসে প্রাইভেট টিউশনির এত টাকা, বইপত্র সহ যাবতীয় খরচ খুব কষ্ট করে চালিয়েছি। আর সম্ভব নয়। পায়ে একটি অপারেশন করালে হয়ত কিছুটা হাঁটতে পারত। তার জন্য চার পাঁচ লাখ টাকার প্রয়োজন। কোথায় পাব। কোলাঘাট সংকেত ক্লাব কৃত্রিম পা করে দিয়েছে। ওর বয়স বাড়ার সাথে সেটাও ছোট হয়ে গেছে, ওনারা আবার ক্যাম্প হলে পা করে দেবেন বলেছেন।”
অনামিকার কাতর আবেদন,-” কাকু আমাকে পড়ার ব্যবস্থা করে দেবেন আমার বাবা মা আর পারবেনা।
৯০% প্রতিবন্ধী হয়েও এক পায়ে দৌড়ে মাধ্যমিক পরীক্ষায় রাজ্যবাসীর কাছে সুনাম অর্জন করেছে কোলাঘাটের অনামিকা।












Leave a Reply