রশ্মি মেটালিকসের দূষণ নিয়ে বিতর্ক, প্রযুক্তিগত সমাধানের পথে সংস্থা।

পশ্চিম মেদিনীপুর, নিজস্ব সংবাদদাতা:- পশ্চিম মেদিনীপুরের খড়্গপুরের গোকুলপুর এলাকায় অবস্থিত রশ্মি মেটালিকস লিমিটেডের স্পঞ্জ আয়রন ও ইস্পাত কারখানাকে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরেই বায়ুদূষণের অভিযোগ তুলে আসছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের দাবি, কারখানার চিমনি থেকে নির্গত কালো ধোঁয়া, ধূলিকণা ও কয়লার ছাইয়ের জেরে গোকুলপুর-সহ আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকার পরিবেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। প্রশাসন ও দূষণ নিয়ন্ত্রণ দফতরে একাধিকবার অভিযোগ জানানো হলেও স্থায়ী সমাধান মেলেনি বলেই অভিযোগ। স্থানীয়দের দাবি, কারখানা থেকে নির্গত সূক্ষ্ম ধূলিকণা ও কালো ধোঁয়ার কারণে এলাকার বায়ুর মান ক্রমশ খারাপ হচ্ছে। কয়লার ছাই ও লৌহজাত ধুলো কৃষিজমি, বাড়িঘর, গাছপালা এবং জলাশয়ে জমে পরিবেশের উপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।
বাসিন্দাদের অভিযোগ, দূষণের জেরে বহু মানুষ শ্বাসকষ্ট, দীর্ঘস্থায়ী কাশি, চোখে জ্বালা, অ্যালার্জি ও ত্বকের বিভিন্ন সমস্যায় ভুগছেন। বিশেষ করে শিশু, প্রবীণ এবং গর্ভবতী মহিলাদের উপর এর প্রভাব বেশি পড়ছে বলে তাঁদের দাবি। দূষণের প্রভাব কৃষিক্ষেত্রেও পড়েছে বলে অভিযোগ কৃষকদের। তাঁদের দাবি, ধুলো ও ছাই ফসলের উপর জমে উৎপাদন কমিয়ে দিচ্ছে এবং কৃষিজমির উর্বরতাও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। পাশাপাশি বর্ষাকালে শিল্প বর্জ্য ও জলনিকাশের সমস্যার কারণে দূষিত জল আশপাশে ছড়িয়ে পড়ে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে বলেও অভিযোগ। এই সমস্যা নিয়ে অতীতে একাধিকবার বিক্ষোভ, প্রতিবাদ ও ডেপুটেশন হয়েছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক সংগঠন এবং সাধারণ মানুষ দূষণ নিয়ন্ত্রণে কঠোর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, আগের সরকার হোক বা বর্তমান সরকার—কোনও সময়েই সমস্যার স্থায়ী সমাধান হয়নি। সম্প্রতি বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নাম উল্লেখ না করেই খড়্গপুরের একটি শিল্প কারখানার দূষণের বিষয়টি উত্থাপন করেন।
অন্যদিকে, রশ্মি গ্রুপ অফ ইন্ডাস্ট্রিজের কর্মকর্তা ভাস্কর চৌধুরী জানিয়েছেন, বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীর সঙ্গে ইতিমধ্যেই বৈঠক হয়েছে। দূষণ নিয়ন্ত্রণে প্রযুক্তিগত সমাধানের জন্য খড়্গপুর আইআইটির বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নেওয়া হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের সুপারিশ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে এবং এর ফলে দূষণের সমস্যা অনেকটাই কমবে বলে সংস্থার আশা।
উল্লেখ্য, স্থানীয়দের অভিযোগ এবং সংস্থার বক্তব্য—উভয় পক্ষের দাবিই স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *