সহপাঠীর খবরেই নড়েচড়ে বসল স্কুল, বাল্যবিবাহ রুখে নজির শিক্ষক-শিক্ষিকাদের।

মালদা, নিজস্ব সংবাদদাতা:- মালদার হবিবপুর থানার অন্তর্গত ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী এলাকার একটি বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকাদের তৎপরতায় বন্ধ হল এক নাবালিকা ছাত্রীর বিয়ে। ঘটনাটি ঘটেছে ডাল্লা চন্দ্রমোহন বিদ্যামন্দিরে। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের মানবিক উদ্যোগে দশম শ্রেণির ১৬ বছর বয়সী এক আদিবাসী ছাত্রীর জীবন নতুন মোড় পেল বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা গিয়েছে, স্কুলের এক ছাত্রী তার সহপাঠী ও বান্ধবী বিশ্বমনি সোরেনের বিয়ের খবর শিক্ষক-শিক্ষিকাদের জানায়। অভিযোগ, পরিবারের পক্ষ থেকে বিশ্বমনির বিয়ে ঠিক করা হয়েছিল। কিন্তু ওই ছাত্রী নিজে বিয়েতে রাজি ছিল না সে পড়তে চাই । অল্প বয়সে বিয়ে দিতে চাওয়ায় সে মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে এবং বিষয়টি তার বন্ধুদের জানায়।
খবর পেয়ে বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকারা দ্রুত উদ্যোগ নেন। তাঁরা ছাত্রীর বাড়িতে পৌঁছে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা করেন। নাবালিকা বয়সে বিয়ে দিলে মেয়েদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও ভবিষ্যৎ জীবনে কী ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়ে, সেই বিষয়ে পরিবারকে সচেতন করা হয়। পাশাপাশি বাল্যবিবাহ আইন সম্পর্কেও তাঁদের অবহিত করা হয়।
শিক্ষক-শিক্ষিকাদের বোঝানোর পর অবশেষে পরিবার বিয়ের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে এবং বিশ্বমনির বিয়ে বন্ধ করা হয়। জানা গেছে, ছাত্রীর বাড়ি সীমান্তবর্তী পান্নাপুর-পীরগঞ্জ এলাকায়। স্কুলের শিক্ষকদের কাছে সে জানিয়েছিল যে, সে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে চায় এবং এই বয়সে বিয়ে করতে চায় না।
বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা জানান, একজন ছাত্রীর ভবিষ্যৎ রক্ষা করা তাঁদের সামাজিক দায়িত্বের মধ্যেই পড়ে। শুধু শিক্ষাদান নয়, শিক্ষার্থীদের নিরাপদ ও সুন্দর ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করাও তাঁদের কর্তব্য। সেই দায়িত্ববোধ থেকেই তাঁরা এই পদক্ষেপ নিয়েছেন।এ বিষয়ে স্থানীয় মন্ত্রী জুয়েল মুর্মু বলেন স্কুলের এই ছাত্রীর পাশে দাঁড়িয়েছেন খুবই ভালো উদ্যোগ আমরাও বিভিন্নভাবে বাল্য বিবাহ সহ বিভিন্ন বিষয়ের উপর সচেতন বার্তা প্রচার চালাবো বাল্যবিবাহ যেন না দেওয়া হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *