ডিজিটাল জনগণনার যুগে প্রবেশ পশ্চিম মেদিনীপুর, ১ আগস্ট থেকেই শুরু স্ব-তথ্য জমার সুযোগ।

পশ্চিম মেদিনীপুর, নিজস্ব সংবাদদাতা:- শনিবার থেকে সারা দেশের সঙ্গে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলাতেও শুরু হচ্ছে ২০২৭ সালের জনগণনার কাজ। এবার প্রথমবারের মতো ডিজিটাল পদ্ধতিতে জনগণনা করা হচ্ছে। ফলে নাগরিকরা চাইলে ১ আগস্ট থেকে ১৫ আগস্ট পর্যন্ত নির্দিষ্ট অনলাইন পোর্টালের মাধ্যমে নিজেদের পরিবারের তথ্য নিজেরাই জমা দিতে পারবেন। এরপর গণনাকর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে সেই তথ্য যাচাই করবেন এবং যাঁরা অনলাইনে তথ্য জমা দিতে পারবেন না, তাঁদের তথ্য সংগ্রহে সহায়তা করবেন।
জনগণনার সময় নাগরিকদের মোট ৩৪টি প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে। পরিবারের সদস্য সংখ্যা, বয়স, শিক্ষাগত যোগ্যতা, পেশা, মোবাইল ফোন, যানবাহন, বাসস্থানের ধরন-সহ একাধিক বিষয়ে তথ্য নেওয়া হবে। অনলাইনে তথ্য জমা দিলে তার স্বীকৃতি বা প্রয়োজনীয় নথি গণনাকর্মীদের দেখাতে হবে, যাতে যাচাইয়ের কাজ সম্পন্ন করা যায়।
জেলা প্রশাসন ইতিমধ্যেই জনগণনার সমস্ত প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। জেলা শাসকের কার্যালয়ের একটি ভবনে জনগণনা দপ্তর চালু হয়েছে। পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সুবিধার জন্য খোলা হয়েছে একটি হেল্প ডেস্ক। গণনাকর্মী, মাস্টার ট্রেনার এবং বিভিন্ন ব্লকের বিডিওদের প্রশিক্ষণও শেষ হয়েছে। প্রশাসনের দাবি, জনগণনার কাজ সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার সাংবাদিক বৈঠকে পশ্চিম মেদিনীপুরের জেলা শাসক বিজিন কৃষ্ণা জানান, “১ আগস্ট থেকে ১৫ আগস্ট পর্যন্ত সাধারণ মানুষ অনলাইনে জনগণনায় অংশ নিতে পারবেন। এরপর গণনাকর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য সংগ্রহ ও যাচাই করবেন। খড়গপুর, ঘাটাল এবং মেদিনীপুর—তিনটি মহকুমার সমস্ত ব্লক ও পুরসভা এলাকায় জনগণনার কাজ হবে। তার আগে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ সম্পন্ন হয়েছে এবং জেলায় জনগণনার জন্য পৃথক অফিসও চালু করা হয়েছে।” প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, জেলাজুড়ে প্রায় ১০ হাজার গণনাকর্মী বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করবেন। জনগণনার মাধ্যমে সংগৃহীত তথ্য ভবিষ্যতে বিভিন্ন সরকারি পরিকল্পনা, উন্নয়নমূলক প্রকল্প, অবকাঠামো নির্মাণ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি প্রণয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। তাই সঠিক ও নির্ভুল তথ্য দিয়ে জনগণনায় সক্রিয়ভাবে সহযোগিতা করার জন্য সকল নাগরিকের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে জেলা প্রশাসন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *