পূর্ব বর্ধমান, রামকৃষ্ণ চক্রবর্তীঃ- রাস্তার দূর্ঘটনাগ্রস্থদের হাসপাতালে নিয়ে গেলে অনেক সময় রক্তের প্রয়োজন হয়৷ নিজে সিভিক ভলেন্টিয়ার হয়ে রক্তের প্রয়োজন কি তা হারে হারে তিনি জানেন, তাই নিজের মেয়ের সাত বছরের জন্মদিন পালনে তিনি ঘরে বসে কেক কাটেন নি৷ বেলুন ফুলিয়ে অন্যান্যদের মত তিনি মেয়ের জন্মদিন পালন করেন নি৷ পূর্ব বর্ধমান জেলার আউশগ্রাম এক ব্লকের বেলারি গ্রামে মেয়ের জন্মদিন পালন করতে পরিবারের সকলকে নিয়ে রক্তদান শিবিরে হাজির হয়ে রক্ত দিলেন সিভিক ভলেন্টিয়ার বধূ৷ তাঁর এমন উৎসাহ দেখে হতবাক হয়ে যান রক্তদান শিবিরের আয়োজকরাও। বেলারি গ্রামের হাটতলায় ইচ্ছেডানা ওয়েলফেয়ার সোসাইটি নামক এক স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা রক্তদান শিবিরের আয়োজন করে৷ ওই সংস্থার সম্পাদক অনুপম রায় সহ অন্যান্য সদস্যরা রক্তদান শিবিরের আয়োজন করেন৷ সেখানেই পেশায় সিভিক তাঁর স্বামী ও বাবার বাড়ির লোকজনদের নিয়ে হাজির হয়ে রক্তদান করেন মেয়ের জন্মদিন উপলক্ষে। বর্ধমান শহরে বিয়ে হয়েছে বেলাড়ি এলাকার সিভিক ভলেন্টিয়ার রুম্পা খাতুনের৷ তাঁর একটি সাত বছরের মেয়েও রয়েছে। তিনি তাঁর স্বামী মা সামন্নেসা মালাকার, ভাই সহ নিজের পরিবারের ১২ জন সদস্যকে নিয়ে রক্তদান করেন৷ রুম্পা বলেন, রক্তদান একটা মহৎ কাজ। আমি জানি একফোঁটা রক্তের জন্য মানুষকে হাহাকার করতে হয়৷ অনেক সময় রাস্তাঘাটে বহু দূর্ঘটনার কবলে পড়েন অনেকেই৷ তাঁদের হাসপাতালে নিয়ে গেলে রক্তের দরকার হয়৷ আমি নিজে আরামবাগ রোডে দূর্ঘটনার পর দেখেছিলাম সেই রোগীর কতটা রক্তের প্রয়োজন হয়েছিল৷ তাই আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি নিজের মেয়ের জন্মদিন পালন করব এই বছর রক্তদান করেই। তাই আমি আমার পরিবারের সবাইকে নিয়ে রক্তদান শিবিরে পৌঁছে রক্তদান করেছি৷ আমার মেয়ে শিখল রক্তদান করা কতটা জরুরি। সংস্থার পক্ষে অনুপম রায় জানান, আমরা হতবাক হয়ে গিয়েছি রূম্পা দিদির মানসিকতায়। তাঁর মেয়ের জন্মদিন পালন করলেন রক্তদান করে৷ আগামী দিনে সবাই এভাবে এগিয়ে আসুক এটাই চাই৷ রক্তদানে উৎসাহ বাড়ুক সাধারণ মানুষের। এর থেকে ভালো কাজ আর কি হতে পারে। প্রত্যেক রক্তদাতার হাতে একটি করে উপহার স্বরূপ গাছের চারা তুলে দেওয়া হয় আয়োজকদের তরফে।
অভিনব ভাবে মেয়ের জন্মদিন পালন।











Leave a Reply