মুর্শিদাবাদ, নিজস্ব সংবাদদাতা:- মুর্শিদাবাদ জেলার শক্তিপুর একটি বর্ধিষ্ণু এলাকা । শক্তিপুর থানার অন্তর্ভূক্ত । নিকটে বাজারসৌ স্টেশন । হাওড়া ডিভিশনের হাওড়া-আজিমগঞ্জ রেল লাইনের অন্তর্গত বাজারসৌ স্টেশন । বাজারসৌ গুরুত্বপূর্ণ রেল স্টেশন । শক্তিপুরের পূর্বদিক দিয়ে বয়ে চলেছে ভাগীরথী গঙ্গা, পশ্চিমে বাবলা নদী, দক্ষিণে ‘ভাগীরথী’ ও ‘বাবলা’ নদীর সঙ্গম । উল্লেখ থাকে যে, বাবলা নদীর তীরবর্তী গ্রামে বিখ্যাত কথা সাহিত্যিক দিলীপ রায়ের জন্মভিটে । এই এলাকার মানুষেরা মূলত কৃষি নির্ভর । প্রান্তিক চাষি । তবে কিছু মানুষ ক্ষুদ্র ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত । হাতে গোনা চাকুরিজীবির সংখ্যা । শক্তিপুরের আশেপাশের মানুষের আর্থিক দৈনদশা প্রকট । প্রান্তিক চাষির বসবাস থাকলেও কৃষি মাণ্ডি নেই । সবচেয়ে আশ্চর্য ব্যাপার, মানুষের সুরাহার জন্য কোনো বৈদ্যুতিক চুল্লি নেই । এখন ডিজিটাল যুগ । সেই অর্থে ডিজিটাল যুগের আধুনিক সু্যোগ-সুবিধা নেই বললেই চলে । আজ পর্যন্ত কলেজ নেই । মানুষের দীর্ঘদিনের বাসনা—একটা কলেজের । শক্তিপুরের আশেপাশে প্রায় পনেরটি হাই স্কুল । সেখান থেকে অনেক ছেলেমেয়ে উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করে বের হচ্ছে । অথচ খুব দুঃখের বিষয়, সকলে কলেজে পড়ার সুযোগ পাচ্ছে না । উচ্চ শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে । সকলেই জানে, শিক্ষা সমাজ উন্নয়নের সোপান । সঠিকভাবে শিক্ষা না পাওয়ার জন্য এলাকা এখনও অনেক পিছিয়ে । বিশেষ করে মেয়েদের উচ্চ শিক্ষার অবস্থা তথৈ-ব-চ । অনেক দূরে কলেজ । সেখানে সরাসরি যাতায়াতের ব্যবস্থা নেই । ট্রেনের উপর নতুবা বাসের উপর নির্ভরশীল । তা ছাড়া প্রান্তিক ও সংখ্যালঘু ঘরের মেয়েদেরকে অনেকেই দূরবর্তী স্থানে পড়াতে চান না। কারণটা পরিষ্কার – ফিরতে যেমন একদিকে রাত্রি হয়, তেমনি ট্রেন-বাসের উপর নির্ভর করে ফিরতে হয়। তাই দেখা যায়, যে সব মেয়েরা কষ্ট করে যাতায়াত করেও কলেজে পড়বে বলে ভর্তি হয়, তারা একসময় নানান অসুবিধার সম্মুখীন হয়ে মাঝপথে পড়া ছেড়ে দেয়।
তাই কলেজের দাবিতে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে “শক্তিপুর নাগরিক মঞ্চ” । নাগরিক মঞ্চের তরফ থেকে আজ বিডিও (বেলডাঙ্গা-২) সাহেবের কাছে কলেজের দাবি জানিয়ে স্মারকলিপি দেওয়া হয় । প্রায় ৮০০ (আট শত) ছাত্র-ছাত্রী এবং এলাকার অধিবাসীবৃন্দ রাস্তায় নেমে সুশৃঙ্খলভাবে পদযাত্রার মধ্যমে বিডিও অফিসে পৌঁছায় । প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি বাঁকারায় ঘোষ পদযাত্রার শুভ সূচনা করেন । বিডিও সাহেব ছিলেন না । পরিবর্তে ছিলেন জয়েন্ট বিডিও সাহেব । তিনি কলেজের দাবিকে সমর্থন জানিয়ে বলেছেন, “কলেজ প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে সবরকম সহযোগিতা করবেন ।” শক্তিপুর নাগরিক মঞ্চের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছেন কথা সাহিত্যিক দিলীপ রায়, উজ্জ্বল সরকার, সম্পাদক সোমনাথ ভট্টাচার্য, প্রমুখ । পদযাত্রার ক্ষেত্রে স্বতঃস্ফুর্তভাবে সহযোগিতা করেছেন এলাকার প্রত্যেকটা মানুষ । ছাত্র-ছাত্রীদের উপস্থিতি নজরকাড়া । ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে অন্যতম মিলকী গ্রামের ছাত্র “আকাশ মল্লিক” ও ঘোল্লা গ্রামের ছাত্রী “পিউ ঘোষ” উপস্থিত ছিল । সকলের একটাই দাবি— “কলেজ চাই ।“
ছাত্র-ছাত্রীদের দাবি– কলেজ চাই ।












Leave a Reply